শিক্ষক, মা-বাবাকে ফুল দিয়ে কৃতজ্ঞতা জানাতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা
এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের ভাল ফলাফলের পেছনে শিক্ষক, বাবা ও মায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে শিক্ষার্থীদের ফুল উপহার দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার।
২০২২ ও ২০২৩ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে আজ প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
পারফরমেন্স বেজড গ্র্যান্টস ফর সেকেন্ডারি ইনস্টিটিউশনস (পি বি জি এস আই) স্কিমের আওতায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক আমাদের বড় স্টেকহোল্ডার। ছাত্র-ছাত্রীদের রাষ্ট্রের কাছে অনেক চাওয়া পাওয়া থাকতে পারে। আমরা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে ন্যায্য ও ন্যায়সংগত দাবিগুলো সরকারের কাছে উপস্থাপন করতে পারি। রাষ্ট্রের সম্পদের যথেষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে, রাষ্ট্রের সীমিত সম্পদ পরিকল্পিতভাবে যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে এ সকল সমস্যা সমাধান করতে হবে। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে এ সকল কাজ বাস্তবায়নের জন্য নাগরিকদেরকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, আমাদের অভিভাবকগণ দেশের কয়েকটি ভালো স্কুলে সন্তানদের ভর্তির জন্য প্রতিযোগিতা শুরু করেন। আমাদের দেশের সকল স্কুলগুলোকে মানসম্মত করে গড়ে তুলতে পারলে এসব প্রতিযোগিতা দূর করা সম্ভব। আমরা এমনভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ছাত্রছাত্রীরা আকষর্ণীয় পরিবেশ ও তাদের চাওয়া পাওয়ার সকল কিছু বিদ্যমান থাকবে। তাদের মেধার বিকাশের জন্য বিভিন্ন ইভেন্টের ক্লাব থাকবে। সেখানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, উপজাতি, চরাঞ্চলে বসবাসকারী ও বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাসকারী উর্দুভাষীদের শিক্ষাগ্রহণের সকল সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান থাকবে। এছাড়াও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগ্রহণের জন্য উপযোগী সকল সুযোগ সুবিধা বিদ্যমান থাকবে। অভিভাবকগণ তাদের সন্তানদের স্কুল-কলেজে দিয়ে যাতে নিশ্চিন্ত থাকতে পারে সে ব্যবস্থা আমাদের গ্রহণ করতে হবে।
ড. আবরার বলেন, আমাদের দেশের অভিভাবকরা কারিগরি শিক্ষায় ছেলেমেয়েদের ভর্তি করতে অনাগ্রহী। কিন্তু বিভিন্ন রিপোর্টে দেখা গেছে, আমাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব রয়েছে। তাই আমাদের কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে মনোযোগী হতে হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আজাদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব ড. খ ম খবিরুল ইসলাম, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. মজিবর রহমান।